বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০ ইং, বাংলা ২৬, চৈত্র ১৪২৬

 ঠাকুরগাঁও জেলার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজ - পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান

 ঠাকুরগাঁও জেলার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজ - পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান
  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০০০০-০০-০০ ০০:০০:০০

 সারমিন  হাসান :ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মো: মনিরুজ্জামান ,পিপিএম বলেছেন , ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজ ।  তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে  ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানে  পড়ালেখা করাই মুখ্য উদ্দেশ্য হতে পারেনা, কারিকুলামের পাশাপাশি  এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিজ শিক্ষা দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের  দায়িত্ব । সেই দায়িত্ব ঠাকুরগাঁওয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে পালন করছেন ইকো পাঠশালা স্কুল এন্ড কলেজ ।  এই প্রতিষ্ঠানের  ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ পড়ালেখার পাশাপাশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা, সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কর্মকান্ডের সাথে সকল ক্ষেত্রে তাদের অবদানের স্বাক্ষর রেখে চলছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাই । 
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন , ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিমা আখতার । এ সময় তিনি বলেন, ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজ ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে।  দেখতে দেখতে ২০ বছর পূর্তি হয়েছে।  আমরা এই বিশ বছরে ২৩ জন ছাত্র-ছাত্রী থেকে অর্জন করেছি প্রায় ২ হাজার এর  অধিক ছাত্র-ছাত্রী ।  আমি মনে করি এটা সম্মানিত ঠাকুরগাঁও বাসি এবং অভিভাবকদের অবদান। তাদের বিশ্বাস ভরসা এবং আমাদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আমরা এই পর্যায়ে উন্নিত করতে পেড়েছি।   আপনারা জানেন ইকো পাঠশালা পিএসসি ,জেএসসি   এবং এসএসসি  পরীক্ষায়  জিপিএ ফাইভ  সহ শতভাগ উর্ত্তীন্ন ফলাফল করে থাকে এবং এইচএসসি পরীক্ষায়  ঠাকুরগাঁয়ে ১১৯ টি কলেজের ভেতরে পাসের হারের দিক থেকে ইকো কলেজ  প্রথম স্থান অধিকার করেছে । 


এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন,জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার মো: আলাউদ্দীন আল আজাদ,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোশারফ হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ড.মুহম্মদ শহীদ উজ জামান । তিনি তার    বক্তব্যের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদদের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ।    তিনি বলেন,   জাতির জনকের যা স্বপ্ন ছিল   একটি পারস্পরিক ভেদাভেদ মুক্ত  অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং সেটি  বিনির্মাণ করা তখনই সম্ভব যদি আমরা আমাদের সন্তানদেরকে সেই  সামগ্রিক যে  শিক্ষা ব্যবস্থা  তার সাথে পরিচিত করে তুলি। যেটি শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্রই লেখাপড়া কেন্দ্রিক হবে না এটি একটি সামগ্রিক শিক্ষা থাকবে যার মাধ্যমে তাদের চিন্তা-চেতনা এবং মননশীলতার পূর্ণ বিকাশ ঘটবে।  তার ধারাবাহিকতাতেই  ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজ  বিগত দুই দশক ধরে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে।  যে কারণে আমাদের সন্তানরা যারা ইতিমধ্যে এখান থেকে পাশ করে বেরিয়েছে এবং যারা এখনো পড়াশোনা করছে তাদেরকে আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি মানবিক গুনাবলী সম্পূর্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। কথনই  তথাকথিত ভালো ছাত্র হয়ে  আত্মকেন্দ্রিক নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নয়। 
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইকো পাঠশালার ৯ম শ্রেণীর ছাত্র ফজলে রাব্বি,পবিত্র ধর্মগ্রন্থ  গীতা  থেকে পাঠ করেন ৫ম শ্রেনীর ছাত্র দীপায়ন চক্রবর্তী। এর পর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মো: মনিরুজ্জামান,পিপিএম  ,  বিশেষ অতিথি জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার মো: আলাউদ্দীন আল আজাদ,সভাপতি ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ড.মুহম্মদ শহীদ উজ জামান ও ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের অধ্যক্ষকে ফুলেল  শুভেচ্ছা ও ব্যাচ প্রদান করে ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর পর প্রধান অতিথি,বিশেষ অতিথি  ও অধ্যক্ষ পতাকা মঞ্চে এসে জাতীয় পতাকা ,অলিম্পিক পতাকা ও ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের পতাকা উত্তোলন করেন। এর পর জাতীয় সংগীত  ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন  ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকা মন্ডলী। এর পর জাতীয় পতাকার প্রতি সন্মান প্রদর্শন করা হয়। এর পর প্রধান অতিথির কাছ থেকে মাঠ পরিদর্শনের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী প্যারেড কমান্ডার মিতু সেন। পাইলট হিসেবে ছিলেন সাম ও মাশরাফি। সাব প্যারেড কমান্ডার সামাঈন বিন্তি ।  বাদক দলে ছিলেন আশিক,রাকিব,জিদনী আদিত্য মিত্র। এর পর ব্যান্ডের তালে তালে কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন ইকো পাঠশালা এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।  পরে প্রধান অতিথি কতৃক মশাল প্রজ্জলন করা হয়। মশাল হাতে মাঠ প্রদক্ষিন  করেন ইকো কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র আল আমীন। ক্রীড়া শপথ পাঠ করেন ১০ম শ্রেণীর ছাত্র রোকনুজ্জামান প্লাবন। পরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা শুরু হয়। মোট ১০৮ টি ইভেন্টে প্রতিযোগীতা হয়। সব শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিরতরন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিও উন্নয়ন কর্মী সুজন খান। 


এ জাতীয় আরো খবর